বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হেলথ-কেয়ার “নর্থ পয়েন্ট মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল-এনপিএমসিএইচ” বাজারে ৬৫ হাজার টাকার ‘ভুয়া’ ক্যান্সার ইনজেকশন দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে বেসরকারি মেডিক্যালে ভর্তিতে অটোমেশন বাতিলের দাবি জাপানের নারাতে শতাব্দী প্রাচীন উৎসবে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা অপারেশনের ঝুঁকি কমাচ্ছে এআই প্রযুক্তি রাতে ভালো ঘুম না হলে যেসব সমস্যা হতে পারে শিশুর আঙুল চোষার অভ্যাস দূর করার উপায় উত্তম চিকিৎসায় সমঅধিকার; অর্জনে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক করে ক্যাম্পস একটি হাসপাতালের সুনাম ডাক্তার থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সবার উপর নির্ভর করে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দাঁতের যত্ন নিবেন যেভাবে

অনেকে বলেন, নিয়মিত দাঁত মাজি, তারপরও দাঁতের সমস্যার অন্ত নাই । এ প্রসঙ্গে একটা কথা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, তা হলো অনেকে নিয়মিত দাঁত পরিস্কার করেন ঠিকই, কিন্তু তাদের হয়তো কিছুটা পদ্ধতিগত বা ব্যবহারগত ত্রুটি রয়েছে। কারন কেহ ব্যবহার করেন ব্রাশ, কেহ ব্যবহার করেন মেসওয়াক, কেউবা শুধু হাতের আঙ্গুল দিয়ে দাঁত মেজে থাকেন। আবার মাজন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। টুথব্রাশের সাথে পেষ্ট ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই।

তবে কারো কারো বেলায় দেখা যায় ব্রাশের সাথে এক ধরণের পাউডার ব্যবহার করতে। এছাড়াও আমাদের দেশে নিম্নতর আর্থ-সামাজিক অবস্থানে যারা বসবাস করেন তাদের মধ্যে মাজন হিসাবে পাউডার, কয়লা, ছাই, বালি-মাটি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রচলন লক্ষ্য করা যায় ।

টুথ পেস্টসহ ব্রাশ
মেছওয়াক
টুথ পাউডার

ছবিতে প্রদর্শিত সমস্ত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে দাঁত পরিস্কার হয় ঠিকই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে হিতে- বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া এ ধরনের মাজন ব্যবহার করা বিজ্ঞান সম্মত নয়। কারণ দীর্ঘদিন এভাবে দাঁত মাজার ফলে একদিকে যেমন দাঁতের বহিরাবরণ তথা এনামেল ক্ষয় হয়ে দাঁত সিন্-সিন্ করতে থাকে। অন্যদিকে দাঁতের গোড়ার মাংস-পেশী সরে গিয়ে দাঁত দুর্বল হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে দাঁত ব্যথা, ঠান্ডা গরমে দাঁত সিন্-সিন্ করা, দাঁতের মাড়িতে প্রদাহ ইত্যাদি সমস্যা লেগেই থাকে। তাই জীবনভর দাঁত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে সঠিক পরিচর্যার প্রয়োজন। আর এ সঠিক পরিচর্যার ব্যাপারটি নির্ভর করছে এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর ।

কীভাবে করবেন দাঁত ব্রাশ ?

ছবিঃ দাঁত ব্রাশ করার বিভিন্ন পদ্ধতি

ছবিতে দাঁত ব্রাশ করার বিভিন্ন পদ্ধতি দেখানো হয়ছে, যেখানে প্রথমে ব্রাশটিকে আড়াআড়িভাবে এমনভাবে ধরতে হবে যেন ব্রাশের ব্রিশেলস গুলো দাঁতের গোড়ায় দাঁত বরাবর লম্বাভাবে থাকে। এভাবে উপরের পাটির দাঁত ওপর থেকে নিচের দিকে এবং নিচের পাটির দাঁত নিচ থেকে উপরের দিকে মাজতে হবে। এমনি করে ঘুরিয়ে দাঁতের ভেতরের দিক এবং বাহিরের দিক ব্রাশ করতে হবে। যেন ব্রাশের ব্রিশেলসগুলো দুই দাঁতের মধ্যবর্তী স্থানে খাদ্যকণা জমে থাকা ডেন্টাল প্ল্যাককে সরিয়ে দিতে পারে। সাধারণতঃ উপরের চোয়ালের ডানদিকের ভিতরের পিঠ থেকে দাঁত ব্রাশ শুরু করা উচিত। ব্রাশে ০.৫ আউন্স মত চাপ প্রয়োগ করতে হবে। অনেকে আছেন খুব জোরে জোরে এবং চাপ দিয়ে ব্রাশ করেন । এটা ঠিক না। এতে দাঁতের উপরের এনামেল ক্ষয় হয়ে গিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অংশ ডেন্টিন বের হয়ে আসে ।

কত সময় ধরে দাঁত ব্রাশ করবেন ?
দাঁত ব্রাশের সময় নিয়ে জনমনে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন বেশীক্ষন স্থায়ী ব্রাশ করলে দাঁতের জন্য ভালো। আসলে দাঁত ব্রাশের বিজ্ঞান সম্মত নিয়মে সময় হওয়া উচিত ২-৩ মিনিট। দাঁতের উপর অনেক সময় হলুদ ধরণের প্রলেপ দেখা যায়। এটা অনেকে মনে করে থাকেন যে, দাঁতের উপর ময়লা। আসলে এটা হচ্ছে এনামেল ক্ষয়ের কারণে। এনামেল ক্ষয় হয়ে তার নিচের স্তর অর্থাৎ ডেন্টিন এক্সপোজ হচ্ছে তাই এসব দাঁত বেশী ঘষা-মাজা না করাই উত্তম।

দিনে কত বার ?
দিনে ২ বার দাঁত ব্রাশ করা বিজ্ঞান সম্মত। যা মুখ ও দাঁতের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তা হতে হবে রাতে ঘুমানোর পূর্বে এবং সকালে নাস্তার পরে ।

কী দিয়ে ব্রাশ করবেন ?

দাঁত ব্রাশ করা অবশ্যই উচিত, উন্নতমানের ব্রাশ ও পেস্ট দিয়ে। ফ্লোরাইড যুক্ত পেস্ট হলে ভালো। তবে শিশুরা পেস্ট খেয়ে ফেলে বিধায় তাদের ক্ষেত্রে পেষ্ট ব্যবহার খুব সাবধানে করতে হবে। ব্রাশের পরিবর্তে মেসওয়াক ব্যবহারও বিজ্ঞান সম্মত। এটা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় স্বীকৃত। আঁশযুক্ত গাছের ডাল যথাঃ জয়তুনের ডাল ভালো। মজার ব্যাপার হলো এসব গাছের ডাল থেকে ফ্লোরাইড এর একটা প্রাকৃতিক উৎস পাওয়া যায়। যা “ডেন্টাল ক্যারিজ” প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

ব্রাশ কেমন হওয়া উচিত ?
বাজারে বিভিন্ন আকারের ও আকৃতির ব্রাশ পাওয়া যায় । একটা উত্তম প্রকৃতির ব্রাশ হবে মাথা ছোট, ব্রিশেলস গুলি নায়লনের তৈরী এবং খুব বেশী শক্ত নয়। শিশুদের জন্য ব্রাশ হওয়া উচিত আকারে ছোট ও নরম ব্রিশেলস যুক্ত। একটি ব্যাপার আমাকে খুব আশ্চর্য করে আমরা অনেক অর্থব্যয় করি নানাবিধ কারণে। কিন্তু আমরা আমাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে থাকি খুবই উদাসিন। মুখ গহ্বর হচ্ছে খুবই স্পর্শ কাতর একটা ব্যাপার, এখানে আমরা মুখ গহ্বর পরিস্কার করার জন্য অত্যান্ত নি¤œ মানের ব্রাশ ব্যবহার করে থাকি এবং একটা ব্রাশ যে কখন ক্রয় করা হয়েছে তার কোন খবর নেই । ঐ ব্রাশ বছরের পর বছর ব্যবহার করে যাচ্ছি। বাজারে অনেক নি¤œ মানের ব্রাশ পাওয়া যায়। যা প্রকৃত অর্থে স্বাস্থ্য সম্মত নয়। আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য সম্মত অর্থাৎ গুনগত মানে ভালো ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। যেনতেন ব্রাশ পরিহার করা আমাদের কাম্য ।

পেস্ট কেমন হওয়া উচিত ?
বাজারে আমরা অনেক ধরনের পেস্ট দেখতে পাই। প্রত্যেকটি পেস্ট এর প্রস্তুত প্রণালী ভিন্ন ভিন্ন। কিছু পেস্ট আছে যে গুলো সাধারণত সবাই ব্যবহার করতে পারে। কিছু পেস্ট আছে যে গুলো রোগের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। অর্থাৎ ঠান্ডা বা গরম পানিতে দাঁত সিন সিন করলে আমরা ঐ জাতীয় পেস্ট ব্যবহার করতে বলি।
যাদের রোগ নাই অর্থাৎ সমস্যা নাই তাদের ঐ জাতীয় পেস্ট ব্যবহার না করাই উত্তম। আমি বলবো প্রত্যেক মাসেই পেস্ট পরিবর্তন করে ব্যবহার করা ভাল। একটা পেস্ট একনাগারে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করাই উত্তম। যেমনঃ বর্তমানে যদি আপনি A পেস্ট ব্যবহার করেন তাহলে পরবর্তী মাসে B পেস্ট এবং এর পরবর্তী মাসে C পেস্ট ব্যবহার করবেন। আবার A তারপর B তারপর C এভাবে ব্যবহার করবেন। আমি পূর্বেই বলেছি যে প্রত্যেক পেস্ট এর প্রস্তুত প্রণালী ভিন্ন ভিন্ন। আপনি যদি পেস্ট পরিবর্তন করে ব্যবহার করেন, তা হলে আপনার দাঁতের জন্য যে ইনগ্রেডিয়েন্স প্রয়োজন সেটা সে পাবে। অবশ্যই আপনি আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

আজীবন দাঁত সুরক্ষার জন্য কতিপয় পরামর্শঃ
১. নিয়মিত ও সঠিক উপায়ে দাঁত ব্রাশ করুন।
২. প্রধান খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
৩. শিশুদের ঘুমের মধ্যে ফিডার খেতে দিবেন না ।
৪. ব্রাশ ও মেসওয়াকে দাঁত সম্পূর্ণ পরিস্কার না হলে “ডেন্টাল ফ্লস” ব্যবহার করুন।
৫. দাঁত মাজার পর নিয়মিত মাড়ি ম্যাসেজ করুন।
৬. মুখ ও দাঁতের সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য বছরে একবার বা দু’বার মুখ ও দাঁত পরীক্ষা
করুন।
৭. দাঁতে কোন গর্ত হলে অপেক্ষা না করে আপনার দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন
করুন।
৮. দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হওয়া।
৯. ধুমপান পরিহার করা। কারন ধুমপানের ফলে দাঁত ও মাড়ির রং বদলে যায় এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে খুব সহজেই দাঁতের মাড়ি সংক্রমিত হতে পারে।
১০. পান, সুপারি, জর্দ্দা, সাদাপাতা খাওয়া এবং দাঁতের গোড়ায় গুল লাগানো বন্ধ করা। কারণ এ থেকে মুখের ভিতর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাক ।
১১. মুখে দুর্গন্ধ হলে তার কারন নির্ধারণ করুন যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
১২. প্রতি ছয় মাস পর মুখ ও দাঁতের পরীক্ষা করানো ।

মেডিকেল রাইটারঃ

ডাঃ মির্জা মুহিবুল হাছান
বি.ডি.এস (ডি.ইউ), এম.এস.এস (ডি.ইউ) এলএলবি (এনইউ),
পিজিটি (বি.এস.এম.এম.ইউ)বিএমডিসি রেজিঃ নং-৪২৯৮
সম্পাদক, মাসিক চিকিৎসা সাময়িকী (ডিএ-২০৫)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেজ ফলো করুন

Categories