ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৫ – আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানা কারণে মানুষ বিরক্ত ও হতাশ হয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাত্রা করছে। তিনি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে চিকিৎসা সেবার প্রায় চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বাজার রয়েছে, যা তারা নিজেদের মধ্যে দখল করতে পারে। তবে কেন মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে, সেটি চিন্তা করা জরুরি। ভারত এবং ব্যাংককের মতো দেশে এমন অনেক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে যারা কখনো ঢাকায় আসেনি। তাদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে হবে। দেশেই যদি ভালো সেবা পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ কখনো বিদেশে যাবে না।
ঢাকার শহীদ আবু সাইদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেকে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, অনেক সময় রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হয় যা তাদের ভীত ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার বাসার একজন হেল্পিং হ্যান্ডকে ঢাকার একটি হাসপাতালে অদ্ভুতভাবে ১৪টি পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছিল, যা সত্যিই অপ্রয়োজনীয়। পরীক্ষা ছাড়াই সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এই ধরনের অনর্থক পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
তিনি চিকিৎসকদের ওপর ওষুধ কোম্পানির প্রভাব নিয়েও কঠোর ভাষায় অভিযোগ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়? বিশ্বের কোথাও তো ডাক্তারদের নির্দিষ্ট সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য রাখা হয় না। তিনি বলছেন, “আপনারা কি ওষুধ কোম্পানির মধ্যস্বত্বভোগী?”
আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে তিনি নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কম বেতন উল্লেখ করেন। নার্সদের মাত্র বারো হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়, যা তাদের মনোবল নষ্ট করে এবং সেবায় প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, মালিকরা কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও নার্সদের ন্যায্য বেতন দিতে অনিচ্ছুক। ভালো বেতন দিলে নার্সরা বেশি মন দিয়ে সেবা প্রদান করবে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, করোনার সময় দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়েছেন। এখন দরকার তাদের বেতন বাড়ানো। কিছুটা লাভ কমিয়ে যদি কর্মীদের সাথে সঠিক ব্যাবহার ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সেটাই লাভ দেবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন হলে মানুষ আর বিদেশে চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করবে না এবং দেশের চিকিৎসা সেবায় আরও উন্নতি হবে। মালিকদের উচিত জনগণের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নতিতে মনোযোগ দেয়া এবং লাভের চাইতে ন্যায্যতা প্রদানে গুরুত্ব দেয়া।