বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হেলথ-কেয়ার “নর্থ পয়েন্ট মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল-এনপিএমসিএইচ” বাজারে ৬৫ হাজার টাকার ‘ভুয়া’ ক্যান্সার ইনজেকশন দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে বেসরকারি মেডিক্যালে ভর্তিতে অটোমেশন বাতিলের দাবি জাপানের নারাতে শতাব্দী প্রাচীন উৎসবে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা অপারেশনের ঝুঁকি কমাচ্ছে এআই প্রযুক্তি রাতে ভালো ঘুম না হলে যেসব সমস্যা হতে পারে শিশুর আঙুল চোষার অভ্যাস দূর করার উপায় উত্তম চিকিৎসায় সমঅধিকার; অর্জনে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক করে ক্যাম্পস একটি হাসপাতালের সুনাম ডাক্তার থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সবার উপর নির্ভর করে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাজারে ৬৫ হাজার টাকার ‘ভুয়া’ ক্যান্সার ইনজেকশন

ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি বলেন, সরকার একই বৃত্ত থেকে কর সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে; কিন্তু দেশে কর দেওয়ার মতো অনেক মানুষ রয়েছে, যারা কর দিচ্ছেন না 

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘‘ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এমন একটি আমদানিকৃত ইনজেকশন বাজার থেকে সংগ্রহের পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে- সেই ওষুধে ক্যান্সার প্রতিষেধকের কোন কিছু নেই। অথচ এই ইনজেকশনের একটির দাম ৬৫ হাজার টাকা। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস এই পরীক্ষা করেছে।’’

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইনসেপ্টার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। বাজারে নিম্নমান ও মানহীন ওষুধ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য দেন। আব্দুল মুক্তাদির ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ওষুধের কাঁচামালের দাম, আমদানির শুল্ক এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির প্রভাবে ওষুধ শিল্পের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরে ওষুধের পেটেন্ট (মেধাস্বত্ব) ও রপ্তানি বাজারে তার প্রভাব ও প্রস্তুতি এবং ওষুধের মান আর দামে বিপণন খরচের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন।  

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের অবিরত সহায়তায় এ অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ওষুধ শিল্প দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এ শিল্পে অনেক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডলার ১১৭.৫০ টাকা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। গ্যাস- বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ইনসেপ্টাকে প্রতি মাসে ১৯ কোটি টাকা গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দিতে হয়। যা দুই বছর আগেও ছিল ৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়েছে। আগে যেখানে ৭-৮ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যেত, বর্তমানে সেখানে ১৩  থেকে ১৪ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন নিতে হচ্ছে। কর্মীদের বেতন বাড়াতে হয়েছে ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু, উৎপাদন খরচ যতটা বেড়েছে, সেই হারে ওষুধের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। কারণ তাতে ওষুধ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এতে ওষুধ কোম্পানি মুনাফা কমেছে। সামগ্রিকভাবে ওষুধ শিল্প ক্রান্তিকাল পার করছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ওষুধ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন এই দুঃসময় সাময়িক। এখন পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে। এটা কেটে যাবে। ২০২২ সালে দেশে ওষুধের বাজার ছিল ৩২০ কোটি ডলারের। এই বাজার কমে বর্তমানে ২৬০ থেকে থেকে ২৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। আগামীতে আবার বাজার বাড়বে।’’

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি বলেন, ‘‘মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ওষুধের বাজার ছোট হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকার একই বৃত্ত থেকে (কর) সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশে কর দেওয়ার মতো অনেক মানুষ রয়েছে, যারা কর দিচ্ছেন না। তাদের থেকে কর সংগ্রহ করার উদ্যোগ দরকার।’’

ওষুধের মূল কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে ৭.৫ % শুল্ক দিতে হয়। আর প্যাকেজিং পণ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫.৫ %। এগুলো কোনোভাবেই বাড়ানো ঠিক হবে না বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, ‘‘হৃদরোগ, হাপানি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ষ্প্রের জন্য এক ধরনের প্লাস্টিক আমদানি করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই প্লাস্টিককে সাধারণ প্লাস্টিক বর্ণনা করে ১২৭ % নিচ্ছে। কিন্তু এগুলোকে ওষুধের কাঁচামাল বিবেচনা করে শুল্কহার ১৫.৫ % করা উচিত। 

মুক্তাদির বলেন, ‘‘ওষুধ রপ্তানি করতে হলে রেজিষ্ট্রেশন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশে খরচ করতে হয়। এই খরচ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলার পর্যন্ত হয়। এ ছাড়া, ওষুধ রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর বিদেশে লিয়াজোঁ অফিস ও কর্মীদের বেতন বাবদও খরচ পাঠাতে হয়। এসব অর্থ পাঠাতে বর্তমানে ৪০ শতাংশ কর দিতে হয়। ওষুধ রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই কর হার প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেজ ফলো করুন

Categories